প্রথম অনুভূতি
হ্যাঁ, আমি কখনো কোনো রিলেশনে জড়াইনি, কাউকে ভালোবাসিওনি। তবে একজনের মায়ায় হয়তো পড়ে গিয়েছিলাম। খুব গোপনে, নিজের মনের ভেতরেই। সে নিজেও জানত না।
লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে দেখতাম। ওদের স্কুলে যেতাম, ক্লাস শেষ হলে দূর থেকে দেখতাম। প্রায়ই দেখা হয়ে যেত।
তার হাঁটা, কথা বলার ধরন, ছোট ছোট সব কিছু কেমন করে যেন আমার ছোট্ট মনে গেঁথে গিয়েছিল। ভালো লাগত তাকে। জীবনে প্রথমবার কারও জন্য ওরকম অনুভূতি হয়েছিল।
অপেক্ষার দিনগুলো
অনেকদিন লুকিয়ে রাখার পর একদিন সাহস করে তাকে মনের কথাটা বলে ফেললাম। সে বলল, এখনো কিছু ভাবেনি, তাকে একটু সময় দিতে।
আমি আশা নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলাম। দিন গেল, মাস গেল, এভাবে আড়াই বছর কেটে গেল।
কখনো মনে হতো একদিন হয়তো সব বদলে যাবে। আবার কখনো মনে হতো, আমি একাই এই অনুভূতিটা বয়ে বেড়াচ্ছি। অনেক কিছু বুঝেও না-বোঝার ভান করেছি।
সত্যিটা বুঝতে পারা
একসময় বুঝলাম, কারও অনুভূতি জোর করে পাওয়া যায় না। তার নিজের জীবন ছিল, নিজের পছন্দ ছিল, নিজের মতো থাকার অধিকার ছিল।
কারও অনুভূতি জোর করে পাওয়া যায় না।
তবুও কিছু ব্যাপার আমাকে কষ্ট দিত। একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
“আপনি কি কখনো আমাকে সত্যি করে ভেবেছিলেন? নাকি আমি শুধু আপনার জীবনের একটা সাময়িক মানুষ ছিলাম?”
সে বলেছিল, তখন সে কাউকে সিরিয়াসলি নেয়নি, নিজের মতো করে থাকতে চায়। আমি যদি এটা মেনে নিতে না পারি, তাহলে দূরত্ব রাখাই ভালো।
সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু একটা জিনিস বুঝেছিলাম,
আমি সরে গেলাম। কিন্তু সরে যাওয়া আর ভুলে যাওয়া এক জিনিস না।
হারিয়ে যাওয়ার পরে
এরপর অনেকটা সময় কেটে গেল। তাকে খুব মনে পড়ত। কোনো চেনা জায়গা, কোনো গান, কোনো পুরোনো কথা, সবকিছুই আবার তার কথা মনে করিয়ে দিত।
এই কয়েক বছরে আমার জীবনে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু আর কাউকে নিয়ে ওরকম অনুভূতি হয়নি। কোনো রিলেশনেও জড়াইনি। হয়তো মনের কোনো এক কোণে সেই প্রথম অনুভূতিটা রয়েই গিয়েছিল।
কাউকে কিছু বলিনি। চুপচাপ নিজের ভেতরেই রেখে দিয়েছিলাম।
তিন বছর পরে
তিন বছর পর হঠাৎ একদিন এক অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ এল। প্রথমে চিনতে পারিনি। কিন্তু কথার ধরন আর কিছু শব্দ দেখে ধীরে ধীরে বুঝে গেলাম, এ সে-ই।
যাকে এতদিন শুধু স্মৃতির মধ্যে দেখেছি, সে আবার আমার জীবনে কথা হয়ে ফিরে এসেছিল।
আমরা কথা বলতাম। হাসি-মজা, গল্প, অনেক কিছুই হতো। পুরোনো সেই অনুভূতিটা আবার একটু একটু করে জেগে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, সময় হয়তো আমাদের দুজনকেই বদলে দিয়েছে, হয়তো এবার কিছু কথা অন্যভাবে বোঝা যাবে।
কিছু না-বলা কথা
কিন্তু জীবন তো সবসময় কল্পনার মতো করে চলে না। আবার কিছু ভুল বোঝাবুঝি হলো, কিছু না-বলা কথা জমল, কিছু প্রশ্নের উত্তর আমি পাইনি। আর একসময় আমাদের মধ্যে আবার দূরত্ব তৈরি হয়ে গেল।
সময়টা সহজ ছিল না। তবে এবার একটা জিনিস শিখেছিলাম,
কাউকে ভালোবাসা মানেই তাকে নিজের করে পাওয়ার অধিকার পাওয়া না।
কখনো কখনো কাউকে ভালোবেসেও তাকে তার নিজের জীবন নিয়ে থাকতে দিতে হয়।
শেষ কথা
সে আমার জীবনে ঠিক কী ছিল, তার একটা নাম আজও দিতে পারি না। প্রথম ভালো লাগা? প্রথম ভালোবাসা? নাকি এমন একজন মানুষ, যাকে মন কোনো একসময় খুব আপন করে নিয়েছিল? উত্তরটা আমার কাছেও পরিষ্কার না।
কিছু মানুষকে জীবন থেকে দূরে রাখা যায়, কিন্তু তাদের সাথে জড়ানো স্মৃতিগুলো পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না।
আমার কোনো অভিযোগ নেই, কোনো দাবিও নেই। শুধু একটা গল্প আছে, আমার জীবনের একটা সত্যি অনুভূতির গল্প।
আর এই গল্পের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এটা শুরু হয়েছিল কোনো প্রত্যাশা থেকে না, শুধু একজন মানুষকে দেখে মনে জন্ম নেওয়া একটা ছোট্ট অনুভূতি থেকে।
"সব গল্পের শেষ মিলনে হয় না। কিছু গল্প মানুষকে বদলে দেওয়ার জন্যই আসে।"
নোট: এই লেখাটি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির প্রকাশ। এখানে বর্ণিত ঘটনাগুলো আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও স্মৃতির আলোকে তুলে ধরা হয়েছে। (S∞2020)